প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি

প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি

মহান আল্লাহ তাআলা শিক্ষার মাধ্যমে মানব জাতিকে সম্মানিত করেছেন। সৃষ্টির সেরা বানিয়েছেন। শিক্ষাই মানুষের মাঝে মনুষ্যত্ববোধ তৈরি করে। বোধ ও বুদ্ধি দান করে। মানুষের বিবেক জাগ্রত করে। মানুষকে ন্যয়-অন্যায়, সত্য-অসত্য এবং সততা ও মানবতা শেখায়। এক কথায়, শিক্ষা মানুষকে প্রকৃত মানুষ বানায়। তাই মানব জীবনে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। শিক্ষা ছাড়া মানুষ ও মানবতা অচল। সমাজ ও রাষ্ট্র বিকল। এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।

তবে প্রশ্ন হলো, সেটা কোন্ শিক্ষা যে শিক্ষা ছাড়া মানুষ ও মানবতা অচল? সমাজ ও রাষ্ট্র বিকল? কোন্ শিক্ষা মানুষের মাঝে মনুষ্যত্ববোধ তৈরি করে? মানুষের বিবেক জাগ্রত করে? মানুষকে মানুষ হতে শেখায়? উত্তর একটাই- ধর্মীয় শিক্ষা। আরেকটু স্পষ্ট করে বললে ইসলামী শিক্ষা। কারণ, যে মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে শিক্ষার মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন সে মহান আল্লাহ তাআলার নিকট ওই শিক্ষাই মকবুল ও গ্রহণযোগ্য যা তিনি আসমান থেকে তাঁর বান্দার নিকট পাঠিয়েছেন। আর সেটাই হলো দ্বীনি শিক্ষা। যে শিক্ষার মূল উৎস পবিত্র কুরআন ও হাদীস। যার শিক্ষক স্বয়ং মহান রাব্বুল আলামীন এবং তাঁর সম্মানিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম। যে ধর্মের শুরুই হয়েছে 'ইকরা' দিয়ে সে ধর্মে শিক্ষাব্যবস্থা কতটা গুরুত্বের দাবি রাখে সেটা সহজেই অনুমেয়।

ধর্মীয় শিক্ষার ভিত্তি রাখা হয়েছে কুরআন-সুন্নাহর উপর। কুরআনে কারীম হলো সামগ্রিক বিষয় সম্বলিত একটি শাশ্বতগ্রন্থ। ইসলামের মূলনীতি চতুষ্টয়ের প্রধান এটিই। উপরন্তু কুরআন হলো মুসলিম উম্মাহর শক্তি, আত্মসম্মান, ঐক্য, সংহতি ও নিরাপত্তার উৎস। ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র তথা সমগ্র বিশ্বের মানুষের সুখ-সমৃদ্ধি ও সমাজ বিনির্মাণে সর্বজনীন এই ঐশী গ্রন্থ শিক্ষা করার গুরুত্ব অপরিসীম। হযরত উমর ফারুক রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-

إِنَّ اللَّهَ يَرْفَعُ بهذا الكِتَابِ أَقْوَامًا، وَيَضَعُ بِهِ آخَرِينَ

'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মহাগ্রন্থ আল কুরআন এর দ্বারা কোন জাতিকে সম্মানিত করেন আবার এর দ্বারা কোনো জাতিকে অপদস্থ করেন।' [সহীহ মুসলিম: ২৬৯/৮১৭/

আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. বলেন- 'তোমরা কুরআন শরীফকে আঁকড়ে ধরো। নিজে শেখো এবং তোমাদের সন্তানদেরকে এর শিক্ষা দাও। কেননা এ সম্পর্কে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং এর দ্বারাই তোমরা প্রতিদান পাবে। বস্তুতঃ বুদ্ধিমান লোকেরাই কুরআন থেকে উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে।'

কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞানার্জন ও ব্যুৎপত্তি অর্জনে আরবী ভাষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

ফিাযায়েলে কুরআন, কাসিম ইবনু সালাম: ১০।

উপরক্ত স্বীনি ইলম তথা ইসলামী জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান সম্পর্কে সম্যক। ধারণা রাখাও আবশ্যক। এ দুয়ের যথাযথ সমন্বয়েই একজন মুসলমান নিজেকে আদর্শবান,

দাঈ, সমাজ সংস্কারক ও যোগ্য নেতৃত্বদানকারী বিজ্ঞ আলেমেদ্বীন হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। এ মহৎ উদ্দেশ্যেই ওলীয়ে কামেল, আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ. এর নির্দেশে এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও একনিষ্ঠ শুভাকাঙ্খীদের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতায় ১৪৩২ হিজরীর ২২ শাওয়াল মুতাবেক ২০১১ ঈসায়ীর ২১শে সেপ্টেম্বর, রোজ বুধবার প্রতিষ্ঠা লাভ করে "আল-মানহাল মডেল কওমী মাদরাসা, উত্তরা, ঢাকা"। 'আলমানহাল' অর্থ হলো পানির ঘাট। উত্তরা আধুনিক সিটিতে দ্বীনের স্বচ্ছ পানি দ্বারা উম্মাহর তৃষ্ণার্ত সন্তানদের পরিতৃপ্ত করার লক্ষ্যে এই প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি।

যেভাবে যাত্রা শুরু

রাজধানী ঢাকার অন্তর্গত আধুনিক শহর উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরের ৯নং রোডের একটি ৫তলা ভবন বিশিষ্ট ভাড়া বাড়িতে 'আলমানহাল' আনুষ্ঠানিকভাবে তার শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করে। শিক্ষাকার্যক্রম শুরু হওয়ার ২য় বর্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণে ইলমে দ্বীন অন্বেষীদের আগমনের ফলে ভবনটি ছাত্র ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যায়।

ফলে শিক্ষাবর্ষের মাঝামাঝিতে ১২নং সেক্টরের ১৯নং রোডে একটি ৭তলা ভবন বিশিষ্ট বাড়ি ভাড়া নেয়া হয়। মাদরাসার শিক্ষাকার্যক্রম দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। ছাত্রসংখ্যা অল্প কয়েক বছরেই কয়েকগুণ বেড়ে যায়, যা একেবারেই কল্পনাতীত। তখন মাদরাসার চাহিদানুযায়ী পরিকল্পনা করে একটি সুদৃশ্য ৬তলা ভবন নির্মাণ করা হয়। ১৪৩৫ হিজরী মুতাবেক ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে এই ভবনে মাদরাসার যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা শুরু হয়।

মক্তব, হিফয, হুফফাজ এবং আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ দিয়ে শুরু করা মাদরাসার শিক্ষাকার্যক্রম যথারীতি চলতে থাকে। ২য় বর্ষ থেকে কিতাব বিভাগের ১ম জামাত খোলা হয়। এরপর প্রতি বছর কিতাব বিভাগের এক এক জামাত বৃদ্ধি পেতে থাকে। সেই সঙ্গে ছাত্রসংখ্যাও আশাতীত বৃদ্ধি পায়।

সফফে ছালিছ মুতাওয়াসসিতের (শরহে বেকায়া) বছর তথা ১৪৩৮-৩৯হিঃ শিক্ষাবর্ষে মাদরাসার অর্থায়নে নির্মিত ৬তলা ভবনটি কানায় কানায় ভরে যায়। ফলে বর্তমান ভবনের নিকটেই মাদরাসার জন্য একটি জমি ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১১.১৬ কাঠা জমি ক্রয় করে সেখানে ৩তলা ভবন নির্মাণ করা হয়।

১৪৪০ হিজরীতে উস্তাদগণের উপস্থিতিতে ১৪৪০-৪১হিজরী শিক্ষাবর্ষে তাকমীলুল হাদীস জামাত খোলার সিদ্ধান্ত হয়। এবং উপস্থিত সকলের সম্মতিতে মাদরাসার নাম পরিবর্তন করে "জামিয়াতুল মানহাল আল কওমিয়া, উত্তরা, ঢাকা" রাখা হয়। বর্তমানে এ ভবনটি কিতাব বিভাগের সকল শ্রেণী, আরবীভাষা ও সাহিত্য বিভাগ এবং ইফতা অনুষদের দরস-তাদরীসের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

arrow_upward